থানকুনি পাতার উপকারিতা 10 টি রোগের সমাধানে থানকুনি পাতা

থানকুনি পাতার উপকারিতা ও থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম


থানকুনি পাতার উপকারিতা ও জটিল রোগ নিরাময় ক্ষমতা,থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম কীরকম এই সব নিয়েই আজকের এই লেখ। গ্রামাঞ্চলে থানকুনি পাতার ব্যবহার সেই আদি কাল থেকেই । এটি খুব ছোট একটি পাতা যা দেখতে গোলাকৃতির মতো । থানকুনি পাতার উপকারিতা রয়েছে অনেক ।

থানকুনি পাতার ল্যাটিন নাম Centella asiatica. এটি দেশের সব এলাকাতে পাওয়া যায় । চিকিৎস্যা ক্ষেত্রে থানকুনি পাতার উপকারিতা অপরিসীম । বিভিন্ন অঞ্চলে এদের ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে যেমনঃ টেয়া, আদামনি, তিতুরা, থানকুনি, মানকি, ঢূলমালিক, থুলকুড়ি, ঢোলামানি, আদাগুনগুনি, ধূলাবেগুন নামে ডাকা হয়ে থাকে ।

তবে বর্তমানে থানকুনি নাম বললে সবাই চিনে । থানকুনি পাতার ভেসজ গুণ বহুল সমাদৃত। ভেসজ ও আয়ুব্রেদিক চিকিৎসাতে থানকুনি  পাতার স্থান অনেক উপরে কারণ এই পাতাইয় রয়েছে নানান প্রকার অসুখ এর নিরাময়ের ক্ষমতা । কোনো রকম যত্ন ছাড়াই ধানকুনি গাছ বাড়ির আশেপাশে ভেজা স্যাঁতস্যাতে জায়গায় জন্মায় যেমন পুকুর পাড়ে । তাহলে চলুন আজ আমরা জানব থানকুনি পাতার উপকারিতা ও 10 টি জটিল রোগের সমাধানে থানকুনি পাতার ভূমিকা।

 ➡ থানকুনি পাতার উপকারিতা ও জটিল রোগ নিরাময় ক্ষমতা


  💡 হজম শক্তিঃ

থানকুনি পাতার রস সেবন করলে  আমাদের হজম ক্ষমতা ‍বৃদ্ধি পায় । এটি খাওয়ার হজম করতে সাহায্য করার জন্য পাচন রস ক্ষরণ যাতে ঠিক মতো হয় সেই দিকে লক্ষ রাখে । ফলে বদ-হজম ও গ্যাস-অম্বলের মত মহা সমস্যাগুলো থেকে আমাদের রেহায় দেয়।

 💡 আমাশয় সমাধানঃ

আমাদের অনেকেরই  আমাশয়ের সমস্যা আছে। এটি একটি জটিল সমস্যা। যাদের এই সমস্যা তারা যদি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে নিয়ম করে থানকুনি পাতার রস খান তবে ১ সপ্তাহের মধ্যে এর ফল পাবেন।

 💡 গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধানঃ

বয়সকালে অনেকের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভোগেন। তিনিরাদের জন্য থানকুনি পাতা  সুন্দর একটি প্রাকৃতিক চিকিৎস্যা । হাফ লিটার মতো দুধের সাথে 250 গ্রাম মিশ্রি ও অল্প পরিমাণ থানকুনি পাতার রস দিয়ে একটি মিশ্রন তৈরি করে নিন । তারপর নিয়মিত প্রতিদিন সকালে খাওয়া খান , দেখবেন এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যা খতম ।

 💡 ক্ষতস্থানে চিকিৎস্যাঃ

শরীরে কোথাও কেটে গেলে সাথে সাথে সেখানে থানকুনি পাতা বেঁটে লাগিয়ে দিন । দেখবেন নিমিষেই ব্যাথা কমে গেছে ।

 💡 চুল পড়া সমাধানঃ

আপনার যদি চুল পড়ার সমস্যা থাকে তবে একদিন ছাড়া থানকুনি পাতা মাথায় লাগান। চুলের গড়ার ভিতর পুষ্টির ঘাটতি পুরণ করে , ফলে  চুল পড়া কমতে থাকে । পরিমাণ মত থানকুনি পাতা বেটে তার সাথে অল্প তুলশি পাতা ও আমলা মিশিয়ে একটা পেষ্ট মতো তৈরি করে নিন । তার পরে এই পেষ্টটিকে একদিন ছাড়া চুলে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন তারপরে ভালো করে ধুয়ে নিন ।

 💡 কাশি থেকে সমাধানঃ

যাদের কাশির ধাত আছে, তারা যদি ২ চামচ মতো থানকুনি পাতার রস ও একটু চিনি মিশিয়ে খান তাহলে দেখবেন চট জলদি কাশি থেকে রেহায় পাবেন । এভাবে এক সপ্তাহ এই মিশ্রনটি খেলে সমস্যা একবারে সমাধান  হবে।

 💡 রক্তসংবহনঃ

থানকুনির মধ্যে Bacoside-A এবং Bacoside-B উপাদান রয়েছে যেগুলি মস্তিস্কের কোষের গঠন করতে সাহায্য করে এবং দেহে রক্তসংবহন স্বাভাবিক রাখে ও বাড়ায়।

আরও দেখুনঃ খাদ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত আর্টিকেল।।

 💡 দাঁতের সমস্যা সমাধানঃ

দাঁতে নানা প্রকার রোগ হয়ে থাকে এ রোগ গুলো দুর করতে থানকুনির কোন তুলনা হয় না । রক্তপাত, মাড়ি ও দাঁত ব্যথাও কমিয়ে দেয় । থানকুনি পাতার রস মুখে নিয়ে গড় গড়িয়ে কুলি করেন খেবেন দাঁতের ব্যাথা অনেকটাই কমে গেছে ।

 💡 পেট ব্যাথাঃ

খাওয়া দাওয়ার অনিয়মিতা ও নানান কারনে আমাদের পেটের ব্যাথা একটা কমন সমস্যা। এই ব্যাথার নিরাময় করতে থানকুনি পাতার কোনো বিকল্প নেই, পেট ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে নিয়মিত থানকুনি পাতা খান।  কিছুদিন খাওয়ার পর দেখবেন আপনার আর পেট ব্যাথা নিয়ে কষ্ট করতে হবে না ।

 💡 জ্বরের সমাধানঃ

জ্বর অনেক শক্তিশালী লোককেও কাতর করে ফেলে । তারা থানকুনি পাতা খেয়ে দেখতে পারেন । আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে জ্বরের সময় ১ চামচ থানকুনি পাতা ও শিউলি পাতার রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেয়ে নিন দেখবেন জ্বর আর নাই।

 ➡ থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়মঃ


থানকুনি পাতার উপকারিতা বা গুণাগুণ গুলো তো জানলেন। এবার জানুন থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম। কী কী ভাবে থানকুনি পাতা সেবন করতে পারেন।

💡 ১) গরম ভাতের সাথে থানকুনির বাটা খেতে পারেন। তার জন্য থানকুনি পাতার পেস্ট বা বাটা তৈরি করতে হয়। ৩-৪ টি থানকুনি পাতার সাথে লঙ্কা ঝাল বুঝে দিয়ে তাতে ১ চামচ জিরা (কালো) এবং অল্প চিনি দিয়ে মিক্সিতে পেস্ট তৈরি করুন। তারপর হালকা আঁচে ১ চামচ সরষের তেল গরম করে তাতে বাটাটা দয়ে দু-মিনিট মতো নাড়িয়ে নিন। এবার এই বাটা গরম ভাতে পরিবেশন করুন। এটি একটি ভালো থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম

💡 ২) থানকুনি পাতা দিয়ে বড়া খেতে ভালো লাগে।  ১৪-১৫ টি পাতা ভালো করে ধুয়ে ছোট করে কেটে নিন। এবার একটি পাত্রে কেটে,রাখা থানকুনি পাতার সাথে পেঁয়াজ কুঁচি,কাঁচা লঙ্কা কুঁচি, অল্প লঙ্কা গুঁড়ো, হলুদ, নুন পরিমাণমতো বেসন ও অল্প পরিমাণ জল নিয়ে ভালো করে মেখে নিন। লক্ষ রাখুন যেন বেশি পাতলা না হয়ে যায়। এবার কড়াইতে গরম তেলে বড়ার মতো করে ভেজে নিন। এই বড়া গরম গরম খান বেশি ভালো লাগবে। এটিও একটি ভালো থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম।

থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম

💡 ৩) থানকুনি পাতার পানীয় তৈরি করেও খেতে পারেন। ২০০ গ্রাম মতো পাতা ভালো করে ধুয়ে তাতে এক কাপ মতো জল দিন। এবার ৪-৫ চামচ চিনি ও হাফ চানচ নুন দিয়ে মিক্সার ব্লেন্ডারে মিক্স করে নিন। এবার একটি পাত্রে সামান্য গরম করুন। তারপর ঠান্ডা জলে পরিমান মতো এই মিক্সটি দিন সাথে দিন অল্প করে লেবুর রস। এইভাবেই তৈরি হয়ে যাবে না থানকুনি পাতার স্বাস্থ্যকর জুস।

এগুলোই হল বেস্ট তিনটি থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম।

 ➡ থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতাঃ


 যে কোনো জিনিসের বেশি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। থানকুনির অনেক উপকারিতার পাশাপাশি অপকারিতা বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে। একবারে ২-৩ পাতার রস খেলে ক্ষতি নেই। এর বেশি খাবেন না। খেলে সেক্ষত্রে পেটের যন্ত্রণা, মাথা ঘোরানো, চুলকানি, রক্ত চাপ কমে যাওয়ার মতো প্বার্শ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যাঁদের লিভারের সমস্যা তাঁরা থানকুনি এড়িয়ে চলুন এছাড়া সামনে অপারেশন থাকলে থাককুনি পাতা না খাওয়ার ভালো।
পরিশেষে বলা যায় রোগ নিরাময়ের জন্য থানকুনি পাতার গুরুত্ব অপরিসীম ।
5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Simit
1 month ago

Thanks for this nice information. This is the best informative health blog in Bengali

1
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x