তরমুজের উপকারিতা , তরমুজের জুস বানানোর রেসিপি

তরমুজের উপকারিতা গুলো


তরমুজ ফলটির সাথে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত , তরমুজের উপকারীতা সম্পর্কে অনেকেই অজানা । তরমুজের উপকারিতার ৮ টি দিক আজকে আলোচনা করবো এবং জানবো তরমুজের জুস বানানোর রেসিপি। এই গ্রীস্মের গরমে তরমুজের কোন বিকল্প নেই ।

তরমুজে কি ভিটামিন আছে ?

তরমুজে কি ভিটামিন আছে ? তরমুজে আছে পর্যাপ্ত ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি। তরমুজের উপকারীতা অপরিসীম , তরমুজে প্রায় ৯২% জলীয় উপাদান রয়েছে যা এই গরমে পানির অভাব পূরণ করতে সাহায্য করে থাকে । তরমুজে রয়েছে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, বিটা ক্যারোটিন, লাইকোপিনসহ নানা উপদান । স্বল্প ক্যালোরিযুক্ত এ ফলটি আপনার ওজনও রাখবে নিয়ন্ত্রণে । এখানে তরমুজের উপকারীতা গুলো সর্ম্পকে তুলে  ধরা হলো ।

তরমুজের উপকারিতার ৮ টি দিক


১. কিডনির সমস্যাঃ

কিডনি সমস্যা সমাধান এর জন্য তরমুজের উপকারিতা অতুলণীয় । ডাবের পানিতে যে গুণাগুণ , তরমুজেও সেই পরিমাণ গুণ রয়েছে । তরমুজ কিডনি ও মুত্রথলিকে বর্জ্যমুক্ত করে থাকে । কিডনি তে পাথর হলে চিকিৎসকরা তরমুজ ও ডাবের পানি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন ।

আরও পড়ুনঃ সর্দি কাশি দূর করা ঘরোয়া উপায় যা অব্যর্থ।

২. হাড় মজবুতঃ

বয়স বাড়ার সাথে সাথেই শরীরে হাড়ে ক্যালসিয়াম এর অভাব দেখা দিয়ে থাকে । বয়স কালে শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা বেড়ে যায় , এ বাড়তি চাহিদা পুরণ না হলে হাত পায়ে ব্যাথা অনুভব হবে ও হাটতে সমস্যা হবে । তাই এ বাড়তি ক্যালসিয়ামের চাহিদা পুরণ করার জন্য আপনার নিয়মিত তরমুজ খাওয়া প্রয়োজন কারণ তরমুজের ভিতরে থাকা ক্যারোটিন ও ক্যালসিয়াম আপনার হাড়কে বয়স কালে মজবুত রাখতে সাহায্য করবে ।

৩. হার্ট ভালো রাখেঃ

হার্টের জন্য তরমুজের উপকারিতা অপরিসীম । এটি রক্তবাহী ধমনীকে নমনীয় ও শীতল রাখতে সাহায্য করে থাকে । তাই স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে থাকে ।

৪. ক্যান্সার প্রতিরোধঃ

তরমুজের ভিতর রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট । যা ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী কোষগুলো ধংস করতে সাহায্য করে । তরমুজে লাইকোপিন নামক উপাদানটি প্রোটেস্ট ক্যান্সারের ঝুকি কমাতে সাহায্য করে থাকে ।

৫. শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধঃ

যাদের পুরোনো শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে তারা নিয়মিত তরমুজ খাবেন । কারণ তরমুজে ভিটামিন “সি“ রয়েছে । নিয়মিত তরমুজ আপনার শরীরে ভিটামিন “সি“ এর অভাব পূরণ করে হাঁপানি থেকে রক্ষা পাবেন ।

৬. পানিশূন্যতাঃ

তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানীয় পদার্থ আছে, এই গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে যে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায় তা পুরণ করার জন্য তরুমজ খাওয়া খুবই প্রয়োজন । তরমুজ খেলে শরীরে পানিশূন্যতা দূর হবে এবং শরীর সুস্থ ও সতেজ থাকবে ।

৭. সুস্থ চোখঃ

তরমুজে প্রচুর পরিমাণে বেটাক্যরোটিন উপাধান রয়েছে । ( তরমুজের লাল রং কে বেটাক্যরোটিন বলে ) যা চোখের জন্য খুবই উপকারী তাই নিয়মিত তরমুজ খেলে চোখ ভালো থাকে এবং চোখের নানা ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ।

৮. শরীরে চর্বি কমায়ঃ

তরমুজে প্রচুর পরিমাণে এমাইনো এসিড রয়েছে যা শরীরে কোলেস্টরেল ও চর্বি কমাতে সাহায্য করে থাকে । তাছাড়া তরমুজ এ থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরে জমে থাকা কোলেস্টরেল কমাতে সাহায্য করে থাকে । তাই শররের চর্বি কমানোর জন্য তরমুজের উপকারিতা অপরিসীম ।

তরমুজের জুস বানানোর রেসিপি


এখন আমরা তরমুজের জুস বানানোর রেসিপি বা তরমুজের শরবত তৈরি করার পদ্ধতি জানবো। এখন যেহেতু তরমুজের সিজন বাজারে প্রচুর পরিমাণ তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে, আপনারা চাইলেই খুব সহজেই এই তরমুজের জুস বানানোর রেসিপি টি করে পারেন।

তরমুজের শরবত বানানোর জন্য প্রথমে মেজারমেন্ট কাপ এর দুই কাপ পরিমাণ তরমুজ নেবেন। আপনারা আপনাদের পরিমাণমতো তরমুজ নিয়ে একটু ছোট সাইজ করে কেটে বীজ গুলো আলাদা করে নিন। এতে করে মিক্সিতে মিক্স করার সময় সুবিধা হবে।

তরমুজের জুস বানানোর রেসিপি

আপনারা আপনাদের সুবিধামতো সাইজ করে কেটে নিলেই হবে। এরপর মিক্সার ব্লেন্ডারে ছোট ছোট টুকরো গুলো দিয়ে হাফ চা চামচ লবণ মিশিয়ে দিন। চাইলে এক টেবিল চামচ পরিমাণ দিয়ে দিন। তরমুজের মিষ্টির পরিমাণ বুঝে চিনি পরিমাণটা কমিয়ে অথবা বাড়িয়ে দিতে পারেন।

এবার ঢাকনা দিয়ে ঢেকে মিক্সার ব্লেন্ডারে মিক্স  করে নিতে হবে। এই সমইয় পানি না দেওয়ায় ভালো না হলে মিক্সার থেকে উপচে যেতে পারে। এক থেকে দুই মিনিটের মত ব্লেন্ড করে নিলেই হয়ে যাবে। তরমুজের জুস বানাতে খুবই কম সময় লাগে আর এই জুসটা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। আপনারা এই গরমে ঠান্ডা ঠান্ডা বানিয়ে খেতে পারেন।

ব্লেন্ড করা হয়ে গেলে জুসটা একটা গ্লাসে বা পাত্রে ছেঁকে নিতে হবে ( না  ছেক্লেও অসুবিধা নেই)। দেখবেন সুন্দর একটা লাল রং এর জুস এসে গেছে। একবারে এই জুসটি ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করুন। ভালো মতো ঠান্ডা হইয়ে গেলে জুসটা জুসটা গেলাসে নিয়ে কিছু আইসকিউব দিয়ে দিন।

ব্যস, তরমুজের জুস রেডি। এই জুস ছোটরা যেমন খেতে পছন্দ করে তেমনি বড়রাও। সামনে যেহেতু রমজান মাস। আপনারা ইফতারিতে খুবই কম সময়ে এই তরমুজের জুস বানিয়ে নিতে পারেন । তরমুজের জুস বানানোর রেসিপিটি ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট আর বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না ।

এমন আরও রেসিপি পেতে এই ব্লগটি অবশ্যই ফলো করবেন। ধন্যবাদ !!

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
trackback

[…] গুলোর মধ্যে অন্যতম। আরও জানুনঃ তরমুজের স্বাস্থ্যকর উপকারিতাগুলো। ➡ ২. রক্তক্ষরণ রোধঃ গ্রীষ্মে […]

1
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x